Homeআন্তর্জাতিকবিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০টি বন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০টি বন

পৃথিবীর ফুসফুস হলো বন। কারণ মানুষসহ পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা সব জীবের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে জরুরি উপাদান অক্সিজেন, আর জীবনরক্ষাকারী এই অক্সিজেনের প্রধান উৎস গাছ। তাই সবুজ বন রক্ষা মানে আসলে পৃথিবীকে রক্ষা করা।

আজ জানবো বিশ্বের আয়তনে বড় এবং বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ১০টি বন সম্পর্কে—যেখানে আছে অসংখ্য প্রজাতির বৃক্ষ, বন্যপ্রাণী এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

 ১০ — ইথিওপিয়ার ফুসফুসঃ সেকা

দক্ষিণ-পশ্চিম ইথিওপিয়ার সেকা বন প্রায় ২৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটি বহু বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির গাছপালা এবং প্রাণীর আশ্রয়স্থল। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখানে বাস করে, যাদের মধ্যে মিনজা উপজাতির মানুষ বিশেষভাবে পরিচিত।তাদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তারা বানরের মাংস খায়।

এখানে চাষাবাদের অনুমতি নেই, ফলে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরিই ছিল তাদের জীবিকা। পরে সরকার বন সংরক্ষণের গুরুত্ব বোঝালে বন নিধন বন্ধ হয়। এখন কফি চাষে সীমিত অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

  ০৯ — হার্ট অফ বোর্নিও

ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই জুড়ে বিস্তৃত প্রায় ২,২০,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই রেইনফরেস্টের বয়স প্রায় ১৪ কোটি বছর। হাতি, বাঘ, গন্ডার, বৃহদাকার বানরসহ নানা প্রাণীর আবাসস্থল এটি।

তবে কাঠ, পাম তেল ও খনিজ আহরণের কারণে বন ধ্বংসের হার উদ্বেগজনক, যা বড় স্তন্যপায়ীদের বিলুপ্তির ঝুঁকিতে ফেলছে।

 ০৮ — ব্ল্যাক ফরেস্ট (জার্মানি)

দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির বাডেন-ওয়ার্টেমবার্গ প্রদেশে অবস্থিত এই বন ১৬০ কিমি দীর্ঘ এবং ৩০–৫০ কিমি প্রস্থ। এর সর্বোচ্চ শিখর ফিল্ডবার্গ (১,৯৯৩ মিটার)।

নাম শুনে কালো রঙের বন মনে হলেও এটি আসলে সবুজে ভরা। ১৯৯৯ সালের এক ভয়াবহ ঝড়ে ১০০ একর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এটি এখনও জার্মানির পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য।

 ০৭ — ম্যানগ্রোভ বন (সুন্দরবন)

প্রায় ১০,০০০ বর্গকিমি জুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবনের ৬০% বাংলাদেশে, বাকি অংশ ভারতে। প্রধান গাছ সুন্দরী, গেওয়া ও কেওড়া। এখানে আছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমিরসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণী।

এটি শুধু পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন নয়, বরং বাঙালির গর্ব।

  ০৬ — আওকিগাহারা (জাপান)

টোকিও থেকে প্রায় ১০০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত এই বন সূর্যের আলো ঢুকতে না পারার কারণে অন্ধকার ও রহস্যময়। স্থানীয়রা একে “আত্মহত্যার বন” বলে।

গভীর ও জটিল শিকড়, গর্ত ও অন্ধকার গুহায় ভরা এই বন ভয়ের পাশাপাশি বিরল প্রজাতির পাখি ও প্রাণীর আবাসস্থল।

 ০৫ — ব্রাজিলের পান্তানাল

প্রায় ৭০,০০০ বর্গকিমি আয়তনের এই বন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের দ্বিগুণ বড়। জাগুয়ার, কুমির ও অসংখ্য দক্ষিণ আমেরিকান বন্যপ্রাণীর বাসস্থান এটি।

 ০৪ — সিংহ রাজ বনভূমি (শ্রীলঙ্কা)

২১ কিমি লম্বা ও ৭ কিমি চওড়া এই বন ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। এখানে ৬০% উদ্ভিদ স্থানীয় ও দুর্লভ। উভচর প্রাণী, সরীসৃপ, কীটপতঙ্গ ও পাখির বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ।

 ০৩ — কিনাবালু ন্যাশনাল পার্ক (মালয়েশিয়া)

মালয়েশিয়ার প্রথম জাতীয় উদ্যান, যেখানে আছে ৪,০৯৫ মিটার উচ্চতার মাউন্ট কিনাবালু। ৩২৬ প্রজাতির পাখি, ১০০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং নানা বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ এখানে দেখা যায়।

এটি এশিয়ার প্রাচীনতম ইকোসিস্টেমের অংশ।

 ০২ — কঙ্গো রেইনফরেস্ট

আফ্রিকার ১.৫ মিলিয়ন বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইনফরেস্ট। গরিলা, শিম্পাঞ্জি, বন্য হাতি ও অসংখ্য প্রাণীর আবাসস্থল।

এটি পৃথিবীর মোট কার্বনের প্রায় অর্ধেক মজুত রাখে, এজন্য একে বলা হয় “পৃথিবীর দ্বিতীয় ফুসফুস”।

 ০১ — আমাজন রেইনফরেস্ট

প্রায় ৭০ লক্ষ বর্গকিমি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বন বিশ্বের অর্ধেক রেইনফরেস্টের আবাসস্থল। ৬০% ব্রাজিলে, বাকিটা পেরু, কলম্বিয়া ও আরও কয়েকটি দেশে।

এতটাই বিশাল যে এখনো অনেক অঞ্চল মানুষের পা পড়েনি। বৈচিত্র্যময় পাখি, পোকামাকড় ও প্রাণীতে ভরা এই বন প্রকৃতির এক অদম্য রহস্য।

উপসংহার

বন শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উৎস নয়, এটি আমাদের জীবন রক্ষাকারী ঢাল। তাই এই অসাধারণ বনগুলো সংরক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular