বলা হয়ে থাকে পৃথিবীতে সভ্যতার সূচনা হয়েছিল কলম আবিষ্কার এর পর থেকে।
এরপর মানুষ হয়ে উঠে সামাজিক প্রাণী, এবং সমাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হয় শাসনব্যবস্থা।
তবে শাসনব্যস্থাকে কেন্দ্র করে আবার হয়েছিল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। প্রতিযোগিতা হয়েছিল কে কত ভূমির শাসক হতে পারে তা নিয়ে।
আজ আমরা জানব পৃথিবীর সূচনা থেকে এ পর্যন্ত পৃথিবী শাসন করা, এবং সভ্যতায় অবদান রাখা সবচে ক্ষমতাশালী কিছু সাম্রাজ্য নিয়ে।
এখানে শক্তিশালী সাম্রাজ্যের ক্রমবিন্যাস করা হয়েছে ভূমির আয়তন, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং শক্তি অনুযায়ী।
মঙ্গল সাম্রাজ্যের ইতিহাস — ঘোড়ার পিঠে উঠে বিশ্ব শাসন
১।বৃটিশ সাম্রাজ্যঃ-
বৃটিশ সাম্রাজ্য বলতে বর্তমান যুক্তরাজ্যের অধীনস্ত সাম্রাজ্য বুঝায়।পৃথিবীর ইতিহাসে বিশ্বের-সবচেয়ে-বড় সাম্রাজ্য ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য।
সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাঃ 16 শতকে এ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা শুরু হয় এবং প্রায় ১৮ শতক পর্যন্ত এটি বিস্তার লাভ করে। এটি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী সাম্রাজ্য।
বিস্তৃতিঃ ১৯২২ সালে এ সাম্রাজ্যের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪৫ কোটি ৮০ লাখ যা ছিল পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। আর এর আয়তন ছিল প্রায় ৩৫,৫০০,০০০ স্কয়ার কিলোমিটার যা পুরো পৃথিবীর এক চতুর্থাংশ।
বর্তমান নর্থ আমেরিকা, আফ্রিকা মহাদেশ এর অঞ্চলসমূহ, ভারত উপমহাদেশ নিয়ে এটি বিস্তৃত ছিল।এর আয়তনের কারণে প্রচলিত ছিল যে, এ সাম্রাজ্যে কখনো সূর্য অস্ত যায়না।
পতনঃ ১৭৮৩ সালে আমেরিকা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ওয়্যার এর পর আমেরিকা এ সাম্রাজ্যের হাতছাড়া হয়।এরপর উনিশ শতকের শুরুর দিকে ১ম বিশ্বযুদ্ধ এবং তার পরপরই ২য় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার সময় এ বিশাল সাম্রাজ্য দুর্বল হতে শুরু করে।
২য় বিশ্বযুদ্ধের পর তাঁরা কলোনীগুলো থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়।
২।মঙ্গোলীয় সাম্রাজ্যঃ-
পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তর সাম্রাজ্য ছিল মোঙ্গল যারা তাতারী নামেও পরিচিত।
১৩শতকে এদের উত্থান হয়। ১৪ শতকে এরা পৃথিবী দাপিয়ে বেড়িয়েছিল।
মঙ্গল কারা?
এরা বর্তমান মঙ্গোলিয়ার বাসকারী এক যাযাবর সম্প্রদায় ছিল। তাঁদের ধর্ম মূলত ছিল টেংরিজম। তারা গোক টেংরি নামক দেবতার পূজা করে থাকত। তবে শেষদিকে তাদের অধিকাংশ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল।
সাম্রাজ্যের সূচনাঃ-
পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত বর্তমান মঙ্গোলিয়া থেকে তাঁদের সাম্রাজ্যের সূচনা হয়।১২০৬ সালে ছোট ছোট যাযাবর বসতী চেংগিস খান নামক একজন নেতার অধীনে একত্রিত হয়। তাঁরা একটি কাউন্সিল গঠন করে ও চেংগিস খানকে মংগলদের শাসক হিসেবে ঘোষণা দেয়।
বিস্তৃতিঃ-
চেংগিস খানের অধীনে এ সাম্রাজ্য খুব দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে। চেংগিস খান এর সামরিক দূরদর্শিতা ও বুদ্ধিমত্তার দরুণ একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে উঠে যার মাধ্যমে চেংগিস খান ও তার পরবর্তী শাসকরা পৃথিবীর অনেক বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়। মূলত তারা যুদ্ধের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চল জয় করে নিয়েছিল।
মঙ্গোল সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল জাপান সাগর থেকে পূর্ব ইউরোপ পর্যন্ত, এবং উত্তরে আর্কটিক মহাসাগর থেকে দক্ষিণে ভারত উপমহাদেশ পর্যন্ত বিশাল ২৪,০০০,০০০ বর্গকিলোমিটার নিয়ে।
তাঁদের সাম্রাজ্য পৃথিবীর প্রায় ১৭শতাংশ জায়গা জুড়ে ছিল।
বর্তমান খোরাসান, চীন,তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, ইরাক,ইরান, তুরস্ক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সিরিয়া, জাপান, রাশিয়ার কিছু অংশ নিয়ে এটি বিস্তৃত ছিল।

সাম্রাজ্যের সমাপ্তিঃ
তাতার বা মঙ্গল সাম্রাজ্য পতনের মূল কারণ ছিল নিজেদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ।
চেংগিস খান এর নাতি ওগেদাই খান এর মৃত্যুর পরে তাঁর ভাই তোলুই এবং চাগাতাই এর মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। ফলে সাম্রাজ্য ২ ভাগ হয়ে যায়। এক অংশ তোলুই আরেক অংশ চাগাতাই শাসন করতে থাকেন। এরপর ১২৫৯ সালে তোলুই এর পরবর্তী শাসক মাংকে খান এর মৃত্যুর পর পুনরায় দুই ভাই আরিক বোকে এবং কুবলাই খান এর মধ্যে একটি যুদ্ধ হয় যা ১২৬০ থেকে ১২৬৪ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং কুবলাই খান জয়লাভ করেন। এ যুদ্ধ তোলুই সিভিল ওয়্যার নামে পরিচিত।
এ যুদ্ধের ফলে তোলুই সাম্রাজ্য কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় মিশরে ‘আইনে জালুতে’র যুদ্ধে মিশরের কাছাকাছি মঙ্গলবাহিনী মুসলিম বাহিনীর নিকট বড় ধরণের পরাজয় বরণ করে যা কাটিয়ে ওঠার পূর্বেই গোল্ডেন হর্ণে বারকে খান আক্রমণ করে বসে।
বারকে খান মূলত মঙ্গল শাসক ছিলেন, এবং ওগেদাই খান এরই ভাই ছিলেন, তবে পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ১২৬০ এ গৃহযুদ্ধের সুযোগ নিয়ে তিনি গোল্ডেন হর্ণ এ মঙ্গলদের পরাজিত করেন। এর পরপরই বর্তমান ফিলিস্তিন এর গাজায় আরেকটি যুদ্ধ হয় এবং মঙ্গলরা পরাজিত হয়।
১২৯৪ সালে কুবলাই খানের মৃত্যুর পর মঙ্গল সাম্রাজ্য ৪টি স্বতন্ত্র ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
১।মধ্য এশিয়াতে চাগাতাই সাম্রাজ্য
,২। ইউরোপে গোল্ডেন হর্ণ,
৩।দক্ষিণে ইলখানাতে, এবং
৪।পূর্বে ইউয়ান রাজতন্ত্র।
এ ৪টি সাম্রাজ্য ই উল্লেখযোগ্য শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল।
✪ইউয়ান রাজতন্ত্রঃ ১৩৬৮ সালে চীনের ইউয়ান রাজপরিবার শাসন করেছিল। এটি একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল যা ১১,০০০,০০০ বর্গকিলোমিটার নিয়ে বিস্তৃত ছিল।
✪চাগাতাই সাম্রাজ্য বর্তমান মঙ্গোলিয়া তে ছিল।
✪গোল্ডেন হর্ণঃ ১৪৮০ সালে রাশিয়া এটি দখল করে নেয়।
✪ইলখানাতেঃ ১৩৩৫-১৩৫৩ এর মধ্যে এ সাম্রাজ্যের ও পতন হয়।
এভাবে বিশাল মঙ্গল সাম্রাজ্য বর্তমান মঙ্গোলিয়া তে সংকুচিত হয়।
৩।রুশ সাম্রাজ্যঃ-
ব্রিটিশ এবং মঙ্গল সাম্রাজ্যের পরে এটি ছিল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তর সাম্রাজ্য। এটি ইউরোপ, এশিয়া এবং নর্থ আমেরিকা এ তিনটি মহাদেশ জুড়ে ছিল।
বিস্তৃতিঃ-
১৯ শতকে এ সাম্রাজ্য উত্তরে আর্কটিক সাগর থেকে দক্ষিণ এ কৃষ্ণসাগর এবং পশ্চিমে বাল্টিক সাগর থেকে পূর্বে নর্থ ক্যালিফোর্ণিয়া পর্যন্ত দীর্ঘ ২,২৮,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
সাম্রাজ্যের সূচনাঃ-
১৭২১ সালে গ্রেট নর্দান যুদ্ধের পর জার সম্রাট প্রথম পিটার যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে এ সাম্রাজ্যের ঘোষণা দেন,, তবে এরও পূর্বে মূলত ১৪৬২ সালে সিজার তৃতীয় ইভান এ সাম্রাজ্যের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
সাম্রাজ্য বিস্তারঃ-
✪ জার সম্রাট প্রথম পিটার, যিনি পিটার দ্যা গ্রেট নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি ১৬৮২ থেকে১৭২৫ সাল পর্যন্ত অনেক অঞ্চল জয় করেন এবং এ সাম্রাজ্যকে বিশাল ও শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
তিনি রাজধানীকে মস্কো থেকে সেইন্ট পিটার্সবার্গ এ স্থানান্তর করেন, এবং শিল্প, সংস্কৃতি , বিজ্ঞান এ প্রভূত উন্নতি সাধন করেন।
✪ সম্রাজ্ঞী ক্যাথরিন দ্য গ্রেট ১৭৬৫ থেকে ১৭৯৩ সাল পর্যন্ত শাসন করেন। তার সময়কে সাম্রাজ্যের স্বর্ণালী যুগ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তিনি বিভিন্ন অঞ্চল বিজয় এবং কলোনী তৈরী করার মাধ্যমে সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটিয়েছিলেন।
✪প্রথম আলেক্সান্ডার (১৮০১-১৮২৫) নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ী হন এবং রাশিয়ান সাম্রাজ্যকে পূর্ব, পশ্চিম, দক্ষিণ দিকে আরো সম্প্রসারিত করে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্যে রূপান্তর করেন।
১৮৫৩ সালে শুরু হওয়া রুশ-তুর্কি যুদ্ধে তিনি ক্রিমিয়া বিজয়ের মধ্য দিয়ে নিজেদের জন্য এশিয়ায় প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত করেন।।
সাম্রাজ্যের সমাপ্তিঃ-
সম্রাট দ্বিতীয় নিকোলাস এর সময়ে ১৯০৫ সালে একটি বিপ্লব সংঘটিত হয় যার ফলে জার সম্রাটদের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারীর শ্রমিক আন্দোলন এর একটি নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
এ বিপ্লবের পর সম্রাট দ্বিতীয় নিকোলাস ক্ষমতাচ্যুত হন এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এরপর অক্টোবর এর বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে এ সরকারও ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং ১৯২২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা হয়।
এভাবে বিশাল রাশিয়ান জার সাম্রাজ্যের পতন হয়।
৪।কিন সাম্রাজ্যঃ-
১৬ শতাব্দীতে বর্তমান রাশিয়া ও নর্থ চীন এর অংশ মাংচুরিয়ায় বসবাসকারী সম্প্রদায়কে মাং চু বলা হতো। তাঁদের বংশ থেকেই কিন রাজবংশের উৎপত্তি।
এটি আয়তনে এবং শক্তিতে বিশ্বের ইতিহাসে ৪র্থ তে অবস্থান করছে।
বিস্তৃতিঃ-
এ সাম্রাজ্য ১,৩৪,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ছিল যা বর্তমান রাশিয়ার মাংচুরিয়া, জাপানের কিছু অংশ, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত, জিনঝিয়াং, সাংহাই, কোরিয়া, ভিয়েতনাম সহ আশপাশের বিস্তৃত অঞ্চল নিয়ে ছিল।
সাম্রাজ্য সূচনাঃ-
১৬৩৬ সালের দিকে মাংচু রাজবংশ জিন এবং পরবর্তীতে কিন তাদের আশেপাশে শক্তিশালী হতে শুরু করে।
১৬৪৪ সালে তাঁরা বেইজিং এ প্রবেশ করে, যার ফলে চীনা অঞ্চলগুলোতে তাঁদের শক্তি বাড়ে এবং মধ্য এশিয়া তাদের জন্য উন্মুক্ত হয়। এরপর এ অঞ্চলে তাঁরা সাম্রাজ্য বিস্তার করতে থাকে।
১৭৭০ সাল নাগাদ তাঁরা তৎকালীন বিশ্বের সবচে বড় এবং জনবহুল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়।

সাম্রাজ্যের সমাপ্তিঃ-
১৮৯৪ সালে সান ঝাংশাই নামক একজন বিপ্লবী, যিনি পশ্চিমা সভ্যতায় শিক্ষিত ছিলেন,, হংকংয়ে একটি চায়না রিভাইভ সোসাইটি গঠন করেন।
এরপর তিনি ১৯০৫ সালে জাপান এর সহায়তায় বিভিন্ন বিদ্রোহী দলকে একত্রিত করেন গণতান্ত্রিক চীন দাবি করেন।
১৯১১সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করে, উচাং নামে এক জাতীয়তাবাদী দল অভুত্থান করে এবং ১৫টি অঞ্চল স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
এ সময় কিন রাজবংশের শেষ শাসক পুয়ি, যাকে শাংটগ ও বলা হতো, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
১৯১২ সালে কিং সাম্রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয় এবং শাংটগ কে রাষ্টরপতি হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়, তবে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তা ব্যর্থ হয়।
অতঃপর গণতান্ত্রিক চীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর ইতিহাস: যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকেএকতাবদ্ধ মহাদেশের জন্ম
৫।স্প্যানিশ সাম্রাজ্যঃ-
এটি মূলত কলোনি ধরনের সাম্রাজ্যে ছিল যা স্পেন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল।
বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্যসমূহের মধ্যে এটি একটি ছিল। এটি ১৪৯২ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
বিস্তৃতিঃ-
আমেরিকার একটি বিশাল অংশ, পশ্চিম ইউরোপের অঞ্চলসমূহ, আফ্রিকা এবং ওশেনিয়া ও প্যাসিফিক-এর দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে এটি বিস্তৃত ছিল। যার আয়তন ছিল ১৩,৭০০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
সাম্রাজ্যের সূচনাঃ-
১৪৬৯ সালে ক্যাস্টিলের ইসাবেলা প্রথম এবং আরাগনের ফার্ডিন্যান্ড দ্বিতীয় মিলে জোট গঠনের মাধ্যমে এ সাম্রাজ্যের সূচনা হয়। যা ক্যাথলিক রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল।
আমেরিকার সামুদ্রিক অঞ্চলের উপর দখল নেয়ার ফলে ক্যাস্টেল রাজ্যটি আইবেরিয়ার শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত হয়।
১৫১৬ থেকে ১৭০০ সাল পর্যন্ত এটি হ্যাবসবার্গ রাজপরিবার এর অধীনে ছিল।
অতঃপর তা বুরবন (১৭০০-১৮০৮)রাজপরিবারের অধীনে যায় এবং সাম্রাজ্যকে পুরোপুরি রাজপরিবারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
পোপ রা তাঁদেরকে ধর্মীয় ক্ষেত্রে ক্ষমতা প্রদান করার ফলে রাজ্যটি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
১৮৫১ সালে পর্তুগিজ যুদ্ধে স্পেনের সম্রাট দ্বিতীয় ফিলিপ পর্তুগাল জয় করে নেন।
১৫৬৯সালে ফিলিপ দ্বিতীয় ইতালি জয় করে।
১৫৬৬ সালে ওসমানী শাসক “সুলেমান দ্যা ম্যাগনিফিসেন্ট” এর মৃত্যু হলে স্পেনীশরা আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং ১৫৭১ সালে লেপোন্তের যুদ্ধে ওসমানী নৌবাহিনীকে পরাজিত করার ফলে তাঁরা বিশ্বে সবচে বড় শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
এছাড়া ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ নিয়ন্ত্রণে আনার পর ১৬ শতকে তাঁরা আমেরিকায় কলোনী তৈরী শুরু করে।
সমাপ্তিঃ-
১৯শতকের শুরুর দিকে আমেরিকা স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে স্পেন তাঁর বিশাল কলোনী হারায়, পরবর্তীতে আফ্রিকা থেকেও কলোনী গুটিয়ে নেয়।
৬।আব্বাসীয় খিলাফাতঃ-
এটি মুসলিম সাম্রাজ্য ছিল। ইসলামের রাসুল মুহাম্মদ ( স) এর চাচা আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব এর নামানুসারে এ রাজবংশের নামকরণ করা হয়।
আব্বাসীয় খিলাফতের সময়কালকে ইসলামের স্বর্ণযুগ বলা হয়। সে সময় বাগদাদ ছিল পৃথিবীর জ্ঞানকেন্দ্র,, যেখানে সভ্যতা,সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, এবং চিকিৎসা শাস্ত্রের জন্য বিদ্যালয়সমূহ গড়ে উঠেছিল। সে সময় সবচে আধুনিক জ্ঞান অর্জন এর জন্য জ্ঞানপিপাসুরা পৃথিবীর সকল প্রান্ত হতে বাগদাদ ভীড় করতো।
বিশ্বের সবচে বড় লাইব্রেরি দারুল হিকমাহ বাগদাদে অবস্থিত ছিল।
সাম্রাজ্যের সূচনাঃ-
ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (স) এর মৃত্যুর পর মুসলিম শাসনতন্ত্রকে খিলাফাত বলা হতো। যার নিয়ম ছিল জনগনের পছন্দ ও মতামত অনুযায়ী শাসক নির্বাচন।
এবং এ শাসক কে খলিফা বলা হতো।
এ নিয়মেই প্রথম ৪ জন খলিফা নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং রাজ্য শাসন করেছিলেন, যাঁদের খলিফায়ে রাশেদিন বলা হতো।
✪কিন্তু পরবর্তীতে শাসনব্যবস্থা মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান এর বংশের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় যাকে উমাইয়া খিলাফাত বলা হতো।
✪৭৫০ সালে মুসলিম রাজতন্ত্র উমাইয়া খিলাফাত এর পতনের পর বর্তমান ইরাক এর কুফা নগরীতে আব্বাসীয় রাজপরিবার সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
পরবর্তীতে রাজধানী কুফা থেকে বাগদাদ এ স্থানান্তর করা হয়।
বিস্তৃতিঃ-
এ সাম্রাজ্য প্রায় ১,১১,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে পৃথিবীর ৮ শতাংশ ভুমি নিয়ে বিস্তৃত ছিল।
বর্তমান-
অ্যান্ডোরা, আজারবাইজান, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আলজেরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান, ইসরায়েল, উজবেকিস্তান, ওমান, কাজাখস্তান, কাতার, কিরগিজস্তান, কুয়েত, জর্জিয়া, জর্দান, জিব্রাল্টার, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, তুর্কমেনিস্তান
পর্তুগাল, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, মাল্টা, মিশর, রাশিয়া, লিবিয়া, লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সাইপ্রাস, সিরিয়া, সৌদি আরব এ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।
সাম্রাজ্যের সমাপ্তিঃ-
এ সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব যদিও ৭৫২ থেকে ১৫১৭ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৭০০বছর ছিল।
তবে ৮ম শতকেই আন্দালুস ( বর্তমান স্পেন ও পর্তুগাল), মরক্কো, সিসিলি, খোরাসান, মিশর সহ কয়েকটি অঞ্চল তাদের হাতছাড়া হয়েছিল।
১০৫৫ সালে সেলজুক তুর্কীদের হাতে আরো বেশ কিছু অঞ্চল হারাতে হয়।
১২৫৮ সালে শাসক আল-মুসতাসিম এর সময়ে মঙ্গোল কমান্ডার হালাকু খান বাগদাদ আক্রমণ করলে আব্বাসীয় খিলাফাত ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ১২৬১ সালে তাঁরা মামলুক রাজ্য মিশরের কায়রোতে পুনরায় নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তখনো ধর্মীয় ক্ষমতা তাদেরই ছিল।
১৫১৭ সালে উসমানীয় শাসকগণ মিশর এর কর্তৃত্ব নিলে আব্বাসীয় সাম্রাজ্য পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং উসমানীয়রা খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করে।
৭।ব্রাজিল এম্পায়ারঃ-
ব্রাজিল সাম্রাজ্য ছিল বিশাল, জনবহুল, যাতে ছিল অনেক ধরণের মানুষের বসবাস।
এটি প্রধানত রাজা শাসন করলেও শাসনতন্ত্র ছিল কিছুটা গণতান্ত্রিক।
বিস্তৃতিঃ-
এ সাম্রাজ্যের আয়তন ছিল ৮৩,৩৭০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
বর্তমান ব্রাজিল, পর্তুগাল, ভেনিজুয়েলা, উরুগুয়ে, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, চিলি,পেরু,প্যারাগুয়ে সহ বিস্তৃত অঞ্চল নিয়ে এ সাম্রাজ্য ছিল।
সাম্রাজ্য সূচনাঃ-
ব্রাজিল প্রথমে পর্তুগাল এর একটি উপনিবেশ ছিল যা পর্তুগিজ রাজা ডম জন ৬ষ্ঠ শাসন করতেন।
নেপোলিয়ন এর আক্রমণ থেকে পালিয়ে রাজা ডম জন ব্রাজিলে চলে আসেন এবং কিংডম অব ব্রাজিল প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৮০৮ সালে তিনি তার বড় ছেলে ডম পেদ্রো প্রথম কে ব্রাজিলের দায়িত্ব দিয়ে নিজে পর্তুগাল ফিরে আসেন।
১৮২২সালে পেদ্রো নিজের বাবা জন ৬ষ্ঠ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ব্রাজিল কে পর্তুগাল এর কলোনী থেকে স্বাধীন করেন।
ফলে স্বাধীন ব্রাজিলের প্রথম সম্রাট হন পেদ্রো প্রথম।
তিনি নাগরিকদের অধিকার, শিক্ষা ইত্যাদি নিশ্চিত করেছিলেন। তবে নারী এবং দাসদের কোনো অধিকার ছিলনা।
তিনি গণতান্ত্রিক সিস্টেমে দ্বি কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট করেছিলেন।।
পেদ্রো প্রথম এর পরবর্তী উত্তরাধিকার তার পুত্র পেদ্রো দ্বিতীয় ৫ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। কিন্তু তার কম বয়সের কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
কিন্তু তিনি কয়েক বছর পরেই এ বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আভ্যন্তরীন শান্তি ফিরে আসার পর ব্রাজিল একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে ( প্ল্যাটাইন, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ের যুদ্ধ) বিজয়ী হয়।
তাঁর সাময়ে ব্রাজিলে শিল্প, সাহিত্য, থিয়েটার বিকাশ লাভ করে।
সাম্রাজ্যের সমাপ্তিঃ
পেদ্রো দ্বিতীয় এর পরে সিংহাসনের উত্তরাধিকার হন তার কন্যা ইসাবেলা।
তবে ব্রাজিল এর জনগন একজন নারীকে শাসক হিসেবে মেনে নিতে রাজি হয়নি।
যোগ্য উত্তরাধিকার এর অভাবে রাজতন্ত্রের অবসান হয় এবং ক্ষমতা সেনাবাহিনী গ্রহণ করে।
৮।খিলাফাতে রাশেদাঃ-
এটি ছিল ৬৩২ সালে ইসলামের রাসুল মুহাম্মদ স. এর মৃত্যুর পর মুসলিম শাসনতন্ত্র। অনেকটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অর্থাৎ সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য ব্যাক্তিদের বোর্ড কর্তৃক এ শাসক নির্বাচিত হয়ে থাকতো।
এ সাম্রাজ্যের সময়কালে এটিই ছিল অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামরিক শক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের সবচে প্রভাবশালী সাম্রাজ্য।
বিস্তৃতিঃ-
এ সাম্রাজ্য ৬,৪০০,০০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ছিল। বর্তমান সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন সহ বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে এটি ছিল।
সাম্রাজ্যের সূচনাঃ-
✪রাসুল স. এর মৃত্যুর পর তাঁর সার্বক্ষণিক সহচর এবং বন্ধু আবু বকর রা. শাসক হিসেবে নির্বাচিত হন।
তিনি প্রথমে সম্পূর্ণ আরব বিজয় করে ইসলামি ভূমির অধীনে আনেন।
এরপর তিনি তৎকালীন পৃথিবীর সবচে শক্তিশালী সাম্রাজ্য পার্শ্ববর্তী পার্সীয়ান (সাসানী) সাম্রাজ্যে আক্রমণ করেন।
✪৬৩৪ সালে আবু বকর রা. এর মৃত্যুর পর তাঁরই কথানুযায়ী রাসুল স. এর আরেক সহচর বনু আদি গোত্রের উমর রা. শাসক নির্বাচিত হন।
তিনি ছিলেন খলিফায়ে রাশেদিন এর মধ্যে সবচে শক্তিশালী শাসক। তার সময়ে ঐতিহাসিক সাসানী সাম্রাজ্য, বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের দুই তৃতিয়াংশেরও বেশি ইসলামি সাম্রাজ্যের অধিভুক্ত হয়। ফিলিস্তিন বিজয় তার উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে একটি ছিল।
✪ শাসক উমর রা. এর মৃত্যুর পর ৬ জনের একটি বোর্ড পরবর্তী শাসক হিসেবে বনু উমাইয়া গোত্রের উসমান রা. কে নির্বাচিত করে।
তাঁর সময়ে সাম্রাজ্য আরো বেশি প্রসারিত হয়।
✪ উসমান রা. এর মৃত্যুর পর রাসুল স. এর চাচাত ভাই আলি রা. শাসক হন।
সাম্রাজ্যের সমাপ্তিঃ-
আলি রা. এর শাসনামলে একটি গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা প্রথম ফিতনা নামে পরিচিত। বনু উমাইয়া গোত্রের মুআবিয়া রা. নামক একজন সাহাবি দাবী করেন উসমান রা. কে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে, এবং তিনি হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করেন।
তাঁর সাথে আলি রা. এর সাথে একটি যুদ্ধ হয়, যা সিফফিনের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
আলি রা. রাজধানী মদিনা থেকে কুফায় স্থানান্তর করেন।
৬৬১ সালে আলি রা. আততায়ীর হাতে নিহত হলে খিলাফাতে রাশেদার সমাপ্তি ঘটে এবং মুআবিয়া রা. কর্তৃক উমাইয়া খিলাফাত প্রতিষ্ঠিত হয়।
৯।উসমানী খিলাফাতঃ-
এটি তুর্কী মুসলিম শাসিত সাম্রাজ্য ছিল। যা বর্তমান তুরস্কের সোগুত থেকে ছোট্ট একটি অঞ্চল নিয়ে শুরু হয়েছিল।
এর প্রতিষ্ঠাতা যদিও ওসমান প্রথম কে বলা হয়, তবে এ সাম্রাজ্যের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁর পিতা আরতুগ্রুল গাজি।
বিস্তৃতিঃ-
এ সাম্রাজ্য ৫,২০০,০০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ছিল যা তিনটি মহাদেশ (পশ্চিম এশিয়া,দক্ষিণ ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা) নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
এর অন্তর্ভুক্ত ছিল বর্তমান তুরস্ক, বলকান,গ্রীস, ক্রিমিয়া, ইরাক, ইরান, সিরিয়া, মিশর, সৌদি আরব, ফিলিস্তিন, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, সুদান সহ বিশাল অঞ্চল।
প্রতিষ্ঠাঃ-
১২৯৯ সালে তুরস্কের আনাতোলিয়ার শহর সোগুতে বসবাসকারী ওঘুজ তুর্কী সম্প্রদায়ের একটি শাখা কায়ী বসতি এর বসতি প্রধান ওসমান প্রথম এ সাম্রাজ্যের সূচনা করেন।
তিনি একদিকে শক্তিশালী বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য অপরদিকে মঙ্গোল শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তিনি একের পর এক বাইজান্টাইন দূর্গ বিজয় করে সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটাতে থাকেন।
✪ ওসমানী রাজবংশের শাসক ২য় মুহাম্মদ, যিনি মুহাম্মদ ফাতিহ নামে পরিচিত ছিলেন,, তিনি বাইজান্টাইন এর রাজধানী কনস্টানটিনোপল ( বর্তমান ইস্তাম্বুল) জয়ের মাধ্যমে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সমাপ্তি ঘটান।
✪১০ম শাসক সুলেমান খান, যিনি সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট নামে পরিচিত ছিলেন,, তিনি ছিলেন উসমানী রাজবংশের সবচে শক্তিশালী শাসক। যার সময়কালে সাম্রাজ্য বিশ্বের সবচে শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছিল এবং তিনি ইতালি পর্যন্ত চলে গিয়েছিলেন।
সাম্রাজ্যের সমাপ্তিঃ-
যে সময় ইউরোপ শিক্ষা, সংস্কৃতিতে অনেক এগিয়ে গিয়েছিল, উসমানী সাম্রাজ্য বিশ্বের শক্তিধর সাম্রাজ্য হলেও আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা-দীক্ষায় অগ্রসর হতে ব্যর্থ হয়েছিল।
১৯শতকে ৩১ তম শাসক আব্দুল মাজিদ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেন ও তুর্কী ছাত্রদের পড়াশোনার জন্য ইউরোপে পাঠাতে শুরু করেন।৩২ তম শাসক আব্দুল আজিজ রাষ্ট্রের আধুনিকায়নে আরো সচেষ্ট হন।তবে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং উসমানী সাম্রাজ্য বৈদেশিক ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ে।
২০শতকে ইউরোপ এ পড়তে যাওয়া ছাত্রদের অধিকাংশই রাজতন্ত্রের পরিবর্তে গণতন্ত্র চেয়েছিল।এ লক্ষ্যে তারা তরুণ তুর্কী নামে একটি সংগঠন করে এবং স্বাধীনতার জন্য বিভিন্ন আভ্যন্তরীন বিদ্রোহ শুরু করে।
৩৪তম শাসক সুলতান ২য় আব্দুল হামিদ ছিলেন উসমানী রাজবংশের সর্বশেষ ক্ষমতাধর সুলতান।
এরপর ১৯১৭ সালে তরুণ তুর্ক সংগঠন অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সুলতান ২য় আব্দুল হামিদ কে ক্ষমতাচ্যুত করে ও তার ভাই কে নামমাত্র ক্ষমতায় বসায়, যার মূলত কোন ক্ষমতা ছিলনা।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানী সাম্রাজ্য জার্মান এর সাথে জোট করে এবং যুদ্ধে পরাজিত হয়ে সাম্রাজ্যের বিশাল একটি অংশ হারায়।
১৯২৩ সালে মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক রাজবংশের খিলাফাত এর বিলুপ্তি ঘোষণা করে গণতান্ত্রিক এবং সেক্যুলার তুরস্কের ঘোষণা দেয়।
১০।রোমান এম্পায়ারঃ-
এটি একটি প্রাচীন সাম্রাজ্য। খ্রিস্টপূর্ব ২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং রোম সম্রাটদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।
বিস্তৃতিঃ-
এ সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ছিল ৪,৪০০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
এটি ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়ার ভূমধ্যসাগর এবং তার আশেপাশের বিশাল অঞ্চল নিয়ে শাসিত হয়েছিল।

সাম্রাজ্যের সূচনাঃ-
খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতাব্দীতে জুলিয়াস সিজার একনায়ক শাসক ছিলেন। খ্রীস্টপূর্ব ৪৪সালে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর গৃহযুদ্ধ এবং অরাজকতা শুরু হয়।
পরবর্তীতে খ্রীস্টপূর্ব ৩১ সালে জুলিয়াস সিজার এর দত্তকপুত্র অক্টাভিয়া অ্যাক্টিয়ামের যুদ্ধে মার্ক এন্টনি ও ক্লিওপেট্রাকে পরাজিত করে ক্ষমতাসীন হয়।
অক্টাভিয়ান মিশর জয় করে এবং ধীরে ধীরে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে।
তাকে অগাস্টাস উপাধি দেয়া হয় এবং খ্রীস্টপূর্ব ২৭ সালে তাঁকে প্রথম রোম সম্রাট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
প্রথম রোমান সম্রাট হিসেবে সিজার অগাস্টাস রোম সাম্রাজ্য শাসন শুরু করেন এবং ৩য় শতাব্দী পর্যন্ত এটি একটি নিরংকুশ ক্ষমতাধর সাম্রাজ্য ছিল।
ইতালির রোম ছিল এর রাজধানী।
সাম্রাজ্যের সমাপ্তিঃ-
৩য় শতাব্দীতে সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে, গ্যালিক এবং পালমিরিন সাম্রাজ্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং অস্থায়ী কিছু সম্রাট তা শাসন করতে শুরু করে।
এভাবে সাম্রাজ্য ২ভাগ হয়ে পূর্ব রোম এবং পশ্চিম রোম নামে ২টি সাম্রাজ্যে ভাগ হয়ে ২ শাসক দ্বারা পরিচালিত হতে থাকে।
পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বাইজান্টাইন হিসেবে ও পশ্চিম টা রোম সাম্রাজ্য হিসেবে থাকে।
৪৭৬ সালে জার্মানরা পশ্চিম সাম্রাজ্যের রাজধানী রেভেনা দখল করার পর পশ্চিম রোম সম্রাট অগাস্টুলাস ক্ষমতা ত্যাগ করেন।
এরপর পূর্ব সাম্রাজ্য যা বাইজান্টাইন হিসেবে পরিচিত ছিল, তার সম্রাট আনুষ্ঠানিক ভাবে রোম সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘোষণা করেন।
বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য আরো কয়েকশত বছর টিকে থাকে।
১৪৫৩ সালে উসমানী খলিফা দ্বিতীয় মুহাম্মদ ফাতিহ কনস্টান্টিনোপল বিজয় করে নিলে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের ও পতন হয়।




