প্লাস্টিকের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই জন্ম নিচ্ছে অদৃশ্য এক ঘাতক;মাইক্রোপ্লাস্টিক। চোখে দেখা যায় না, কিন্তু আকারে এত ক্ষুদ্র (২–৫ মাইক্রোমিটার) যে সহজেই পানি, মাটি আর বাতাসে মিশে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে আমাদের খাদ্যশৃঙ্খলে, শেষমেশ মানুষের শরীরেও।
কীভাবে তৈরি হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক
- কারখানার বর্জ্য, ভাঙা প্লাস্টিক দ্রব্য, বা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় বড় প্লাস্টিক ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়।
- সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি ও পানির স্রোত বড় প্লাস্টিককে ভেঙে মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিক বানায়।
- দৈনন্দিন কসমেটিকস (ফেসওয়াশ, স্ক্রাব, ডিটারজেন্ট, ক্রিম)–এ ইঞ্জিনিয়ারিংকৃত মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে।
- এমনকি টি ব্যাগেও প্লাস্টিক থাকে, যা পানির সাথে মিশে শরীরে প্রবেশ করে।
যেভাবে জানা গেল পৃথিবীর বয়স
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি
নদী, খাল, বিল, সমুদ্র—সবখানেই ছড়িয়ে পড়ছে এই কণা। মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে জমছে, খাদ্য হিসেবে মানুষের দেহে প্রবেশ করছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় বঙ্গোপসাগরের মাছ ও অনুজীবে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ফলে শুধু পরিবেশ নয়, গোটা বাস্তুতন্ত্রে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
মানবদেহে প্রভাব
ক্যানসার, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও প্রজনন সমস্যা তৈরি করতে পারে। প্লাস্টিক কণায় বিষাক্ত রাসায়নিক থাকায় লিভার, কিডনি, ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে তোলে।
বাংলাদেশের সংকট
উন্নত দেশের তুলনায় এখানে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দুর্বল। শহরের খাল, নালা, নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্য জমে সাগরে পৌঁছে যায়। প্রতিবেশী দেশ থেকেও নদীপথে প্লাস্টিক ভেসে আসে। ফলে বাংলাদেশ আরও বড় ঝুঁকির মুখে।
কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান: আধুনিক প্রযুক্তি, সুফল ও কুফল
করণীয়
1. সরকারি উদ্যোগ – প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কঠোর নীতি।
2. গবেষণা – মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা বাড়ানো।
3. জনসচেতনতা – ভোক্তাদের বিকল্প ব্যবহার ও ঝুঁকি সম্পর্কে জানানো।
4. প্লাস্টিক বিকল্প – জৈব-বিয়োজ্য প্যাকেট, কাপড়ের ব্যাগ, কাগজের মোড়ক ব্যবহার।
5. রিসাইক্লিং বৃদ্ধি – উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্যকে পুনঃব্যবহারযোগ্য করা।
মাইক্রোপ্লাস্টিক অদৃশ্য হলেও এর প্রভাব ভয়াবহ। এখনই যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে আগামী প্রজন্মের জন্য তা হবে এক মারাত্মক বিপর্যয়।




